‘অপু ভাই’ চুল হারিয়েছেন!


ইয়াসীন আরাফাত অপু ওরফে 'অপু ভাই' তার চুল হারিয়েছেন। ১৫ দিন পর গতকাল মঙ্গলবার এক প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগে গ্রেফতারের কয়েকদিন পর জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তার মাথায় চুল দেখা যায়নি।

কারাগারে চুল কেটে ছোট করায় অপুর মন খারাপ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী জাহানারা বেগম।      বুধবার গণমাধ্যমকে জাহানারা বেগম বলেন, ‘অপু মডেলিং করেন, এটা তার পেশা। কাজের প্রয়োজনে তিনি চুল বড় রেখেছিলেন এবং ভিন্ন রং করিয়েছিলেন। কিন্তু কারাগারে তার চুল কেটে ছোট করা হয়েছে। এতে তার মন খারাপ হয়েছে।’

২ আগস্ট রাজধানীর উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরের আলাওল অ্যাভিনিউতে রাস্তা দখল করে অপু এবং তার কয়েকজন সহযোগী আড্ডা দিচ্ছিলেন। সে সময় মেহেদী হাসান নামের এক ব্যক্তি বন্ধুদের নিয়ে গাড়িতে চড়ে ওই সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় মেহেদী রাস্তা ছাড়তে হর্ন দেন। কেন হর্ন দেওয়া হলো—এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তা হাতাহাতি ও মারামারির পর্যায়ে গড়ায়।

তবে গাড়িতে থাকা প্রকৌশলী মেহেদী হাসান রবিন জানান, গত ২ আগস্ট সন্ধ্যায় আমি কোরবানির মাংস দিতে শ্বশুড়বাড়িতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ফেরার পথে প্রাইভেটকারে আমি ও আমার তিন বন্ধু ছিলাম। উত্তরা আলাউল এভিনিউতে যাওযার পর দেখি আনুমানিক ৪০/৫০ জন পুরো সড়ক বন্ধ করে কিছু একটা করছে। তখন আমরা যাওয়ার জন্য হর্ন দিচ্ছিলাম। পরে দেখি ওরা টিকটক শ্যুটিং করছে। পরে তারা গাড়ির সামনে এসে বাজে মন্তব্য করছিল। তখন আমি গাড়ি থেকে নেমে জিজ্ঞেস করি, কি সমস্যা? এতেই ওরা আমাদের ওপর চড়াও হয় এবং মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে ওরা আমার মাথায় আঘাত করে এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। পরে সেখান থেকে হাসপাতালে গিয়ে ট্রিটমেন্ট নেই। আমরা মাথায় তিনটি সেলাই লেগেছে। 

পরদিন সকালে ওই প্রকৌশলীর বাবা এস এম মাহবুব আলম বাদী হয়ে উত্তরা পূর্ব থানায় আটজনের নামোল্লেখ একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০/২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামির মধ্যে টিকটকার অপু ভাই (২০), শাহাদাত হোসেন (৩০), রনি (২৫), জসিম উদ্দিন (৪৫), মুরাদ (২২), নাজমুল (২১), শাকিল (২৫) ও সানিসহ (২২) রয়েছেন।

ওই মামলার ভিত্তিতে ৩ আগস্ট সন্ধ্যায় উত্তরা আলাউল এভিনিউ এলাকায় অভিযান চালিয়ে টিকটকার অপু ভাই ও তার এক সহযোগী নাজমুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।