পাবনায় প্রেমিকের বাড়িতে অন্তঃসত্ত্বা কলেজছাত্রীর অবস্থান

বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা) : পাবনার ভাঙ্গুড়ায় স্ত্রী’র সামাজিক মর্যাদা পেতে বিয়ের কাবিন ও কোর্টের এফিডেভিটের কাগজপত্র নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন মেহরিন সুলতানা (২০) নামে এক কলেজ ছাত্রী।

মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে ভাঙ্গুড়া উপজেলার মন্ডুতোষ ইউনিয়নের দিয়ারপাড়া গ্রামে। মেহরিন সুলতানা উপজেলার নৌবাড়িয়া গ্রামের রবিউল করিমের মেয়ে ও ভাঙ্গুড়া হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রী কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। এ ঘটনায় মেহরিনের বাবা রবিউল করিম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।  

এদিকে বুধবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মেয়েটি তার শ্বশুর বাড়ির বাহির উঠানেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বর মাসে উপজেলার মন্ডতোষ ইউনিয়নের দিয়ারপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে খায়রুল ইসলামের সঙ্গে একই উপজেলার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের নৌবাড়ীয়া গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়ে মেহরিন সুলতানার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন মেহরিন। কিন্তু বিষয়টি ধামাচাপা দিতে খাইরুল ইসলামের বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে মেহরিন গর্ভের সন্তান নষ্ট করে। পরে দু'জনে চলতি বছরের ৫ এপ্রিল পাবনার আদালতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এবং একই দিনে ৭ লাখ টাকা দেনমোহরে কাজী অফিসের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

কিন্তু বিবাহের পরে স্ত্রী হিসাবে স্বীকৃতিনা পেয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে বিয়ের কাবিন ও কোর্টের এফিডেভিটের কাগজপত্র নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে হাজির হন। মেয়েটি শ্বশুর বাড়িতে ঢুকে নিজেকে খাইরুলে স্ত্রী বলে পরিচয় দেন। তখন শ্বশুর বাড়ির লোকেরা তাকে চর-থাপ্প্রমারে এবং ঘারধরে বের করে দেয়। তারপরও মেয়েটি ঐ বাড়ির বাহির উঠানে বসে থাকেন। ততক্ষণে মেয়েটির স্বামী খাইরুল ইসলাম তাকে ফেলে পালিয়ে যায়।

ঘটনাটি জানতে পেরে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের এসআই মোদাচ্ছের হোসেন ঘটনাস্থলে যান। তবে বিষয়টি নারী ও শিশু অধিকার সম্পর্কিত হওয়ায় মেয়েটিকে আইনগত সহায়তা তারা দিতে পারেননি বলে ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান। 

মেহরিন সুলতানা জানান, একবছর আগে খাইরুলের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সুযোগে তাদের একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়। মেহরিন গর্ভধারণও করে। তখন খাইরুল শর্ত দেয় যে গর্ভপাত না করলে সে তাকে বিয়ে করবে না। তখন ট্যাবলেট খেয়ে গর্ভপাত করানো হয়।

তিনি আরো বলেন,তাকে স্ত্রী হিসাবে মেনে না নিলে আত্মহত্যা করবেন।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাসনাত জাহান বলেন,সামাজিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যায় কিন্তু ছেলের বাবা বিষয়টি মেনে না নেওয়ায় আদালতের আশ্রয় নিতে মেয়ের বাবাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

খাইরুলের বোন আশা পারভীন বলেন, মেয়েটি ষড়যন্ত্র করে আমার ভাইকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। মেয়েটির স্বভাব চরিত্র ভালো নয়। তাই তাকে কোনোভাবেই পরিবারের পক্ষ থেকে বাড়ির গৃহবধূ হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব না। প্রয়োজনে আমরা প্রশাসনের সহায়তা নেব।