পাবনার কয়েকজন চিরকুমার

রফিকুল ইসলাম ফরিদ

চির কুমার মানে যারা বিয়ে সাদী করতে চান না বা পারেন না কিংবা অঢেল অর্থ সম্পদ থাকা সত্বেও বিয়ের পিঁড়িতে বসতে অনীহা বা অপারগতা প্রকাশ করেন বা দেখান। দেখতে দেখতে বয়স ৪০/৫০ বছর হয়ে গেলেও বিয়ে করার কথাই মাথায় আনেন না। অনেক সম্মানী ব্যক্তি বা পুরুষ বড় বড় ব্যবসা করেন কিংবা সরকারী চাকুরী-বাকীরাও করেন কিন্তু বিয়ে সাদী করতে চান না-এটা কি তাদের শারিরীক না মানসিক সমস্যা নাকি পারিবারিক ঝুট-ঝামেলা, না কোন প্রেম ঘটিত ব্যাপার স্যাপার অর্থাৎ ছেক খাওয়া বা ঘাতানী খাওয়া সেটাই এখন ভেবে দেখার বিষয়। পাবনা শহরে রয়েছেন শতাধিক চিরকুমার।

 এই ধরুন-

(১) পাবনা ডায়াবেটিক সমিতিতে চাকুরী করেন নয়নামতির মোঃ ওমর আলী। বয়স উনার ৪০ পার।

(২) ডায়াবেটিক সমিতির আরেকজন চাকুরীজীবী মোঃ হেলাল উদ্দীনের বাড়ী শালগাড়ীয়ায় বয়স ৩৭ পার

(৩) মেটে সড়কের জেলখানার পিছনের রাস্তার চিরকুমার ফটো সাংবাদিক হোয়াইট আলমের বাড়ীর সামনের রাস্তার বাসিন্দা রনি ঠিকাদার

(৪) লাহিড়ীপাড়াস্থ অর্থাৎ প্রয়াত মহিলা এমপি অধ্যাপিকা জান্নাতুল ফেরদৌস ও সাবেক এমপি মরহুম এড. আমজাদ হোসেনের বাড়ীর নিকটস্থ বিএনপি অফিসের নিকটের টোনা স্যার এখনো বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পারেননি। টোনা স্যারের বয়স ৭০ পার।

(৫) মেটে সড়কের ভবঘুরে শ্যামল মিয়ার বয়সও ৫০ পার।

(৬) কফিলুদ্দিন পাড়ার অরুণ কুমার চক্রবর্তী চিরকুমার। বয়স উনার ৬০ ছুঁই ছুঁই টিভি মেকার।

(৭) পাবনা ডায়াবেটিক সমিতির সন্নিকটে টাটকা সবজি বিক্রি করেন শ্রী কানু কুমারের বয়স ৭০ এর ঘরে।

 (৮) লাহিড়ী পাড়ার লেবু মিয়ার বয়স ৫০ পার। লেবু পুরান কাপড় বিক্রি করে।

 (৯) এছাড়া আরেক চিরকুমার কবি কামাল আমার ক্লাসমেট। ওর বয়স ৬৩ বছর। পৈলানপুর এলাকায় বাড়ী।

 (১০) হেমায়েতপুরের কালীপদ কুমারও চির কুমারের খাতায় নাম লিখিয়েছেন। (১১) মেন্টালের কালাদারও ৭৫ বছর বয়স হয়েছে। 

(১২) বাজিতপুর ঘাটের মৃত আনার জোয়ার্দ্দারের নাতী পাবনা পৌরসভার সাবেক কমিশনার কামাল জোয়াদ্দারকে বিয়ের কথা বললে তিনি মাথা ঝাঁকিয়ে হাস্যোজ্জল মুখে বলেন বিয়ে করার দেরী আছে। কামাল জোয়ার্দ্দারের বয়সও ষাট ছুই ছুই।

 (১৩) কামাল জোয়ার্দ্দারের ছোট ভাই হাঁস প্রেমী সফল সবজী চাষী ইকবাল জোয়াদ্দারের বয়স ৪০ পার। বিয়ের জন্য কনে খুঁজতে খুঁজতে পেরেসান। পত্রিকায় পাত্রী চাই এর বিজ্ঞাপনের কথা বললে ইকবাল জোয়ার্দ্দার আক্ষেপ করে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন পারিবারিক নানা ঝক্কি-ঝামেলার কারণে তিনি বিয়ে করতে বিলম্ব করেছেন

(১৪) পাবনা প্রেসক্লাবের সদস্য ফটো সাংবাদিক হোয়াইট ম্যান এসএম আলমকে বিয়ের কথা বললে তিনি আমাকে মারার জন্য প্রস্তুতি নেন। (১৫) পাবনা প্রেসক্লাবের সদস্য অধ্যাপক কৃষ্ণ ভৌমিকের ভাই ডা. রামদুলাল ভৌমিকও পাবনা শহরের পাঁচমাথার নিকটস্থ নিমতলা সড়কের বাসিন্দা। উনার ষাট বছর পেরিয়ে গেলেও বিয়ের সাজে সাজতে পারেননি।

(১৬) পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক শিবজিত নাগের বয়স ৭০ পার। উনাকে বিয়ের কথা বললে নানা রকম যুক্তি দেখান। অধ্যাপক শিবজিত নাগের রয়েছে বিশাল আলীসান বাড়ী। রয়েছে বিশাল একটি মার্কেট যেটা শহরের মধ্যস্থলে। মার্কেটটির নাম নাগ মার্কেট। 

এসব চির কুমারররা অনতিবিলম্বে একটি কমিটি গঠন করবে বলে পাবনা প্রেসক্লাবের সহকারী শেখ সাইফুল ইসলাম ও পাবনা ডায়াবেটিক সমিতির ফরমান আলী গত ১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে উৎফুল্ল মনে আমাকে কথাগুলো জানিয়ে চিরকুমারদের ব্যাপারে পত্রিকায় নিউজসহ ছবি ছাপাতে বার বার অনুরোধ করেন। এতোসব চিরকুমারের সন্ধান মিললেও একাধিক বিয়ে করার অর্থাৎ বউ পাগলাদের সংখ্যা কিন্তু কম নয়। চরঘোষপুরের দিন মজুর জলিল ১৮টি বিয়ে করে বহাল তবিয়তে ঘর সংসার করছেন। আশরাফ কণ্ট্রাকটর ৩টি বিয়ে করেছেন। কেউবা বিয়ের পর বিয়ে করেন। কেউবা একটিও করতে নারাজ। এর কারণ খুঁজে বের করতে হবে।